Skip to main content

You Are My Daffodil। রোমান্টিক থ্রিলার গল্প।গল্প ০১


 #গল্প_০১

গল্পের নাম: You Are My Daffodil

জনরা: রোমান্টিক,থ্রিলার 

লেখক: ইউসুফ তুরাগ


প্লট: NPD (Narcissistic personality Disorder) এ ভোগা এক যুবক, ইরাশ, তার পছন্দের নারী,রিহাকে মেরে ফেলতে বাসে ওঠে। ইরাশ কেন তাকে মেরে ফেলতে চায়, শেষপর্যন্ত হত্যা করতে পারবে কি না,এর সাথে ড্যাফোডিল আর গ্রিক রুপকথার সম্পর্ক  নিয়ে এই গল্প।

YOU ARE MY DAFFODIL

চুপচাপ সিটে বসে আছে ইরাশ। বাসে ওঠার পর থেকেই একভাবে বসে আছে।পরনে ঢিলেঢালা সাদা শার্ট আর জলপাই রঙের কার্গো প্যান্ট। হাতে একগুচ্ছ ড্যাফোডিল। প্যান্টের সামনের পকেটে দুটো পকেট স্প্রে। মাঝেমাঝে গোলচশমার ফাক দিয়ে পাশে জানলার ধারের সিটে বসে থাকা মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে।হাতে থাকা ড্যাফোডিলগুচ্ছে স্প্রে করে মেয়েটাকে ঘ্রান নিতে দিলেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে.

মেয়েটার নাম রিহা। বাসের জানালা দিয়ে আগত বাতাস তার কৃষ্ণকালো চুল উড়িয়ে নিচ্ছে।কাকতালীয় ভাবে তার জামার রং আর ইরাশের হাতে থাকা ফুলের রঙ একই।হলুদ। হলুদ রঙ বসন্তকে ডেকে আনে ।আর বসন্ত আনে প্রেম.প্রেম কি?

ইরাশ ভাবে।এই যে আঙুল দিয়ে রিহার এলোমোলো চুল ঠিক করার দৃশ্য দেখে তার হৃতস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে সেটা? নাকি -

“আপনি ইরাশ তাই না?আমরা একি এলাকায় থাকি” এতক্ষনে ইরাশের উপস্থিতি টের পেয়েছে রিহা।

“জি”

“ড্যাফোডিল!” বাচ্চাদের মত খুশি হয়ে যায় মেয়েটা, “কি কিউট”।ইরাশ জানে, রিহা সবসময়েই ফুল পছন্দ করে। আর এটাও জানে ফুল হাতে নিয়েই নাকের কাছে নিয়ে কয়েকবার ঘ্রাণ নেয়।এই ঘ্রান নেওয়াই আজ তার মৃত্যুর কারণ হবে।

প্যান্টের পকেটে সিগারেটের প্যাকেট সাইজের ছোট্ট দুটি পকেট স্প্রে।একটির রং লাল অন্যটি নীল। দুটোতে দুইরকমের কেমিক্যাল। দুটোই যেকোনো মানুষকে কিছুসময়ের মধ্যেই মেরে ফেলবে কিন্তু মেরে ফেলার প্রক্রিয়াটা ভিন্ন। 

নীলরঙের টাতে যে ক্যামিকেল আছে সেটা ড্যাফোডিলে স্প্রে করে দিলে, স্মেল নেয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে হার্টএটাক হবে। ফরেনসিকে এর ক্যামিকেল ধরা পড়বে না।লাল রঙেরটি ভয়ংকর। নাক দিয়ে এই ক্যামিকেলের কণা ঢুকলে নরক যন্ত্রণার মৃত্যু হয়। নাক,মুখ দিয়ে রক্ত পড়ে, মনে হয় যেন ভিতরের সব অঙ্গপ্রতঙ্গ আগুনে দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ইরাশ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কোনটা ব্যাবহার করবে তার প্রেয়সী থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হতে। শুধু এই ব্যাপারে না, জটিল সিদ্ধান্তগুলো কখনোই নিতে পারে নি ইরাশ। দুচারটে অপশন থেকে একটি বেছে নেয়ার ব্যাওয়ারটা সবসময়েই তার কাছে রহস্যময়।যে রহস্য সে উদঘাটন করতে পারে নি কখনোই,আজকেও পারছে না।তাই দুটো অপশনই সাথে নিয়ে এসেছে। সে সিদ্ধান্ত নিবে না, ওই মুহুর্রতে তার অবচেতন মন আর সিদ্ধান্তের ধাধায় ধোয়াশা হয়ে থাকা চিন্তারা যা চায় তাই করবে।

“কার জন্যে নিচ্ছেন?” কথাটা বলে নিজেই লজ্জায় পড়ে যায় রিহা,বুঝতে পারে এটা অনধিকার চর্চা, “দু:খিত, আসলে ফুল দেখলে আমি কেমন যেন হয়ে যাই।তাও আবার এত সুন্দর ড্যাফোডিল”.

এরপরে আর কথা হয় না তাদের,এক অস্বস্তিকর নিরবতা।

“ড্যাফোডিল নিয়ে একটা গ্রিক রুপকথা আছে, জানেন?”নিরবতা দেয়াল ভাঙানোর জন্য বলে ইরাশ।

“তাই নাকি? বলুন শুনি।অনেকটা রাস্তা বাকি, রুপকথা শুনলে কিছুটা সময় কাটবে।”

ইরাশ বলতে শুরু করে,

“গ্রিক মিথোলজিতে একজন কিশোর বয়সী শিকারি ছিলো,নাম নার্সিসাস। দেখতে খুব সুন্দর ছিলো সে। একদিন বন্ধুদের সাথে শিকারে গিয়ে জংগলে হারিয়ে যায়। হাটতে হাটতে পাহাড়ের কাছে আসে নার্সিসাস।ওই পাহাড়ে এক নিম্ফ ছিলো,নাম ইকো। 

-নিম্ফ কি?

-এরা প্রকৃতির দেবী।গ্রিক মিথোলজিতে, কম ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু দেবী আছে,যারা তাদের  অধীনে থাকা নির্দিষ্ট এলাকার প্রকৃতিকে সুরক্ষা দেয়। পাহাড়,নদী,ঝরণা,জংগল একেক জায়গায় একেক নিম্ফ থাকে। তারা দেখতে খুবই সুন্দরী,কখনো কখনো পাওয়ারফুল দেবতারাও নিম্ফদের প্রেমে পড়ত।

-বুঝতে পেরেছি।

-এমনি একজন নিম্ফ ছিলো ইকো। সে নার্সিসাসকে দেখতে পেয়ে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়।তাকে ফলো করতে থাকে। একসময় নার্সিসাসকে তার মনের কথা বলে দেয়।

-একজন নিম্ফ মানুষের প্রেমে পড়েছে?তাহলে নিশ্চয় ঐ ছেলে খুব হ্যান্ডসাম হবে-একটু হাসে রিহা।

-মিথোলজি তো তাই বলছে।নার্সিসাসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর আগেও অনেকে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।এতে তার মধ্যে একটা অহংকারবোধ কাজ করত।সবসময়ের মত এবারও সে নাকচ করে দেয়।ইকো এতে প্রচন্ড কষ্ট পায় এবং অদৃশ্য হয়ে যায়

-স্যাড স্টোরি!

আর কিছুক্ষন পর রিহাও এভাবে পৃথিবী থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।তার জন্যে মায়া হয় ইরাশের,কিন্তু কখনো কখনো সেই মায়া উপেক্ষা করে ক্রোধ বিজয়ী হয়।একই এলাকায় থাকে ইরাশ ও রিহা, কিন্তু রিহার পৃথিবীতে আজপর্যন্ত সে অদৃশ্যই ছিলো। দিনের পর দিন রিহার দিকে তাকিয়ে থাকত ইরাশ,তার সব পছন্দের বিষয় নিজের অভ্যাসে পরিণত করেছে। রিহা যথেষ্ট স্মার্ট হওয়া সত্ত্বেও এসবের কিছুই তার চোখে পড়েনি? নাকি দেখেও দেখেনি। ইরাশ না হয় তার জড়তার কারণে মুখে বলতে পারেনি,কিন্তু রিহা যদি তাকে পর্যবেক্ষন করত তাহলে সে ঠিকি বুঝতে পারত ইরাশ তাকে কতটা ভালোবাসে।রিহা সেটা করেনি। আর তাই তাকে মরতে হবে।ভাবতেই বুকটা চিনচিন করে উঠে ইরাশের,হাউমাউ করে কাদতে মন চায়।এখন কান্না করা যাবে না,রিহা তার থেকে গল্প শোনার অপেক্ষায় আছে-

“এই ঘটনার আগে বা পরে নার্সিসাসকে ভালোবাসার কথা আরো একজন বলে।”

-”বাহ,এই ছেলে তাহলে  খুব পপুলার ছিলো মেয়েদের মাঝে”

-মেয়ে না,এবার তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে একজন ছেলে। 

-ছেলে, ছি: তখন কার মানুষেরাও এত বিকৃত মানুষিকতার ছিলো?

-সবযুগেই বিকৃত মানুষিকতার অসুস্থ মানুষ থাকে।আগেও ছিলো এখনো আছে।

-নার্সিসাস কি এক্সেপ্ট করেছিলো?গে ছিলো নার্সিসাস? ছি:- বলে জানলা দিয়ে থুথু ফেলে। 

 সামনের দিকের কিছু চুল তার চেহারায় এসে পড়েছে গুলো।বাম হাত দিয়ে রিহা চুল ঠিক করে,অনামিকাতে পড়া স্বর্ণের আংটিটা স্পষ্ট। ইরাশের মাঝে একরাশ তিক্ততা ভর করে,ভালো করেই জানে এই আংটির ব্যাপারে।গত শুক্রবার রিহার হবু বর তাকে এটা পড়িয়ে দিয়েছে।রিহার হবু বর- কথাটা এড়িয়ে যেতে চায় ইরাশ,এটা যন্ত্রনাদায়ক।খুব বেশি যন্ত্রনাদায়ক।তাই এটা এড়িয়ে যেতে চায়,যেমনটা ছোটবেলা থেকে যেকোনো যন্ত্রনাদায়ক স্মৃতি এড়িয়ে যেতো।এদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই তার। 

তবে রিহার হাতের আংটিটা দেখে ইরাশের যন্ত্রনার সাথে ক্রোধও অনুভুত হলো। বুঝতে পারে তার মুখের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাচ্ছে,মন চায় এক্ষুনি রিহার হাত থেকে ওই বিশ্রী আংটিটা খুলে বাসের জানলা দিয়ে ফেলে দেয়।কিন্তু সেটা সে করতে পারবে না,করার দরকারো নেই এখন আর। এমনিতেই কিছুক্ষন পর এই আংটি থাকা না থাকা কোনো ম্যাটারই করবে না।আমি ছাড়া তুমি অন্য কারোর হতে পারবে না-মনে মনে ভাবে ইরাশ,রিহাকে অন্যকারোর হতে দিবে না,যেকোনো উপায়েই আটকাবে সেটা।

“ইরাশ!”, রিহার কথায় হুশ ফিরে পায় ।তার মায়াবী চেহারাটার দিকে তাকালে সব ভুলে থাকা যায়।কি এক সম্মোহনের ক্ষমতা আছে সেখানে।

“নার্সিসাস কি এক্সেপ্ট করেছিলো?”

“না”-জবাব দেয় ইরাশ, “ওই ছেলেকে তিরস্কার করে তাড়িয়ে দেয়, পরে ছেলেটা আত্মহত্যা করে ফেলে। মৃত্যু আগে সে নার্সিসাসকে অভিশাপ দেয় আর প্রার্থনা করে যাতে তাকে এর শাস্তি দেয়া হয়। নার্সিসাসের এসব অহংকারী কর্মকান্ড দেখে, প্রতিশোধের দেবী নেমেসিস শাস্তি দেয় যে, নার্সিসাস যাকে ভালোবাসবে তাকে কক্ষনো পাবে না সে।”

-ইন্টারেস্টিং!এরপর কি হলো? নার্সিসাস পেল কাউকে ভালোবাসার জন্যে?

-পেয়েছিলো।এমন একজনকে পেয়েছিলো,যার সৌন্দর্যের মোহে পড়ে গিয়েছিলো সে।

-কাকে পেল?কোনো নিম্ফ ?

-না, নিজেকে।

-হোয়াট? নিজেকে? 

-জি,নিজেকে।নার্সিসাস তো জংগলে হারিয়ে গিয়েছিলো,হাটতে হাটতে একসময় সে তৃষ্ণার্ত হয়ে যায়।একটা হ্রদের কাছে যায় পানি পান করার জন্যে।মিথোলজি অনুযায়ী ওই হ্রদের পানি কোনো পশুপাখি স্পর্শ করেনি,এবং খুব স্বচ্ছ। পানি খাওয়ার জন্যে যখন নার্সিসাস ঝুকে তখন সে তার জীবদ্দশার সবচেয়ে সুন্দর মানুষকে দেখে, যার সৌন্দর্যে সে মুগ্ধ হয়ে যায়-হ্রদের স্বচ্ছ জলে নিজেকে দেখে।নেমেসিসের অভিশাপেরর কারণে হোক বা যে কারণেই হোক,নার্সিসাস দেখে বুঝতে পারে না যে এটা তারই প্রতিবিম্ব। নিজের প্রতিবিম্ব দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়ে যায় যে, সেখান থেকে নড়তে পারে না।তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় ভালোবেসে ফেলে। ছুতে গেলে পায়না। একসময় বুঝতে পারে তার ভালোবাসাকে সে কখনোই পাবে না।তবুও সে হ্রদ ছেড়ে যায় না,এভাবে না খেয়ে একসময়  মারা যায় এবং তার শরীর ড্যাফোডিলে পরিণত হয়” নার্সিসাসের গল্প শেষ করল ইরাশ। তার

হাতে থাকা পুষ্পগুচ্ছের দিকে তাকিয়ে বলল, “আর এরপর থেকেই ড্যাফোডিল হয়ে গেলো প্রেমের প্রতীক।বুঝলেন?”

-হুমম..  বুঝেছি।কিন্তু আমার কি মনে হয় জানেন, ড্যাফোডিল প্রেমের প্রতীক না বরং…

-বরং? থামলেন কেন,বলুন।

-বরং প্রেমের অপ্রাপ্তিতার প্রতীক।অবশ্য এটা সম্পূর্ণভাবে আমার মতামত।ব্যাখ্যাটা স্টুপিডও হতে পারে.”রিহা হাসে। 

-না না বলুন,প্লিজ।

-দেখুন, দিনের পর দিন নার্সিসাস স্বচ্ছ স্থির পানিতে নিজেকে দেখেছে, অজান্তেই পানিতে ভেসে ওঠা নিজের অবয়বের প্রেমে পড়েছে। যখন ছুতে যেত, আর পেতো না। সারা পৃথিবীর কথা ভুলে ঐ হ্রদের কাছে পড়ে ছিলো, যাতে মুগ্ধ হয়েছে তা হারিয়ে ফেলার ভয়ে।দিনের পর দিন না খেয়ে, আত্মত্যাগ করে তবু যাকে ভালোবেসেছে তাকে মিথ্যা ভাবতে চায়নি, তাকে না পাওয়ার অপ্রাপ্তিটা মেনে নিতে পারেনি।নার্সিসাসকে ঘিরে ফুটে ওঠে- ড্যাফোডিল। আপনার কি মনে হয় না, ড্যফোডিল গুলো সাক্ষী দিচ্ছে-এখানে শুয়ে আছে নার্সিসাস যে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে অপারগ,এক হতভাগা, যে খুব নিকটে থেকেও তার প্রেমকে ছুতে পারেনি।আমরা ড্যাফোডিল তার অপ্রাপ্তিতার সাক্ষী”।

অপ্রাপ্তিতা!-ইরাশ এক নতুন ভাবনায় হারিয়ে যায়।কথা বলে না। পকেট থেকে স্প্রে গুলো বের করে তাকিয়ে থাকে। ড্যাফোডিল, প্রেম নয় অপ্রাপ্তিতা।রিহার দিকে তাকায় ইরাশ। মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে।কি মায়াবী চেহারা।কিন্তু….কিছু একটা ভাবে ইরাশ তার চোখের কোণায় জল চলে আসে।

কিছুক্ষণ পর রিহা চোখ মেলে দেখে তার পাশে থাকা ছেলেটি নেই।সামনে পিছনে উকি দিয়েও পাওয়া গেল না তাকে। ছেলেটি আসলেই নেই, “অদ্ভুত তো!মাঝপথেই নেমে গেল?” পাশের সিটে রাখা ড্যাফোডিলের তোড়ার দিকে চোখ পড়ে তার। কি সুন্দর! ড্যাফোডিলের সৌন্দর্য এভাবে আগে উপলব্ধি করেনি। ‘নার্সিসাসের অপ্রাপ্তিতার প্রতীক’-মুচকি হেসে ফুল গুলো হাতে তুলে নেয় রিহা,হলুদের মায়ায় পড়ে গেছে সে।কাছে নিয়ে এসে চোখ বন্ধ করে ঘ্রান শুকে, “আহা! কি মিষ্টি সুঘ্রান!”

সূর্য তলিয়ে যাচ্ছে।এর লাল আভা নদীর পানিকে রক্তলাল করে তুলেছে।মনে হচ্ছে যেন রক্তের নদী।ব্রিজের উপর মাথা নিচু করে হাটছে ইরাশ। হাতে একটি ভাঙা কাচের টুকরো।রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়েছে বাস থেকে নেমে। বাম হাতের তালু দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। কাচের টুকরোটা ফেলে দেয়,কার্গো প্যান্টের সামনের পকেট থেকে একটা পকেট স্প্রে বের করে।লাল রঙের। বাম হাতের তালুর গভীর ক্ষতে স্প্রে করতে থাকে ইরাশ।কতবার করে ঠিক গুনে না। এর পরিণতি জানে সে।কিছু যায় আসে না এখন আর।জীবনে প্রতি মোড়ে রহস্য, যার কোনোটাই সে উদঘাটন করতে পারে নি।এখন পারছে। তার জীবনের মানে- অপ্রাপ্তিতা।এই অপ্রাপ্তিতার আফসোস নিয়ে রহস্যকে আরো রহস্যময় করে তোলার কোনো মানে হয় না।স্প্রে টা মুখের সামনে ধরে ইরাশ।নাকে,মুখে চোখে স্প্রে করতে থাকে।

রিহা বাস থেকে নামতেই একটা কন্ঠস্বর তাকে ডাক দেয়,’'রিহা!”।রিহা সেই কন্ঠ লক্ষ্য করে ঘাড় ফেরায়।হাসিমাখা মুখ নিয়ে একটি যুবক তার দিকে এগিয়ে আসে। তার হবু বর। “বাহ!সুন্দর ফুল।ড্যাফোডিল না?”

“হ্যা”-বলতেই রিহার মনে পড়ে ইরাশ চলে যাওয়ার পর সিটে ড্যাফোডিলের ওপর একটা চিরকুটও ছিলো।আফ্রান,তার হবু বর ম্যাসেজ দেয়াতে সেটার কথা একদম 

ভুলেই যায় সে। “কি লিখা থাকতে পারে চিরকুটটাতে?” ভাবে রিহা।

প্রায় শত মাইল দূরে,রাতের আধার সূর্যকে প্রায় গ্রাস করেছে। রাস্তার পাশে পড়ে আছে একটি নিথর দেহ।হাতে আর চেহারায় ফোস্কা পড়ে গেছে। নাক,চোখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।ভৌতিক সিনেমার কোনো নরপিশাচের মত দেখাচ্ছে তাকে।এই নরক যন্ত্রণা ভোগ করার পরও এখনো মরে যায়নি দেহটি।আরো যন্ত্রণা ভোগ করা বাকি! চোখটা কিছুটা নড়ে উঠে।

ইরাশ অনুভব করে তার সারা শরীর ড্যাফোডিলে ঢেকে যাচ্ছে,চারপাশ থেকে ড্যাফোডিল তাকে ঘিরে ধরছে,আস্তে আস্তে সব অন্ধকার হয়ে যায়।

কানের কাছে রিহার আওয়াজ শুনে “এখানে শুয়ে আছে নার্সিসাস যে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে অপারগ,এক হতভাগা যে খুব নিকটে থেকেও তার প্রেমকে ছুতে পারেনি।আমরা ড্যাফোডিলেরা তার অপ্রাপ্তিতার সাক্ষী”

চিরকুটের ভাজটা খুললে রিহা দেখতে পেতো সেখানে এক প্রেমিকের অপ্রকাশিত প্রেমের  চূড়ান্ত স্বীকারক্তি লিখা আছে- “You are my Daffodil,Whom I could never touch”

✍️ ইউসুফ তুরাগ

যারা পড়েছেন ধন্যবাদ।মতামত জানাবেন।

যারা পড়েননি, বিরাট কিছু মিস করে ফেলছেন😏


For Better Experience You can Download the PDF version:

https://drive.google.com/file/d/1T5BttWgO39J0TNmrCqfn364bRo9qCQ3h/view?usp=drivesdk

 আমার আরো লিখা পড়ার জন্য আমার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখতে পারেন: 

Turaag's Journal


More info:

    



Comments

Popular posts from this blog

রি:পার্ট ০১:মার্ডার অন দি শিপ।পর্ব ০১।গল্প ০২

   গল্পের নাম : Ri part 1: Murder on the ship (#পর্ব_০১) জনরা: রহস্য, থ্রিলার "তো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।লোকটার পরিচয় জানা গেছে?” “ না।লোকটা একা ছিলো কেউ চিনে না তাকে” WAVEs A11 জাহাজের ছোট্ট একটা কেবিনে দাঁড়িয়ে ওসি সাহেব আর এই জাহাজের ক্যাপ্টেন মোফাজ্জল হক কথা বলছে।ছোট্ট কেবিনটাতে আরো ৩জন আছে।সাব ইন্সপেক্টর,একজন কন্সটেবল আর চতুর্থ ব্যাক্তিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দুইতলাবিশিষ্ট এই জাহাজের নিচতলায় সব কেবিন গুলো পাড় হয়ে একটা সিড়ি পাওয়া যায়। সিড়ি বেয়ে নেমে সোজা সরু করিডোর দিয়ে শেষের দিকে গেলে এই ছোট্ট স্টোররুমের মত কেবিন। কেবিনে ঢুকে ডানদিকের ফাকা জায়গাটায় একটা চাদর বিছানো। তার উপর একটা মৃতদেহ! হাত পা ছড়ানো, মুখে দাড়ি।কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেমানান বিষয়টা হবে-বৃদ্ধের বাম চোখের জায়গায় গর্তটা।গুলির বেগ চোখ ও মস্তিষ্ককে ঝাঝড়া করে দিয়ে বেরিয়ে গেছে।ফ্লোরে মগজ আর রক্তের ছিটকে থাকা অংশ দেখেই এটা আন্দাজ করা যায়। ওসি সাহেব রুমটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করছে। কিছু একটা খুজছে সে। পাওয়া গেলনা।পাজলের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ টুকরোটাই মিসিং!ওয়েপন অব দি মার্ডার! “ লাশ প্রথম কে খুজে পেয়ে...

এক্সিস্টেনশাল ক্রাইসিস। সাই-ফাই থ্রিলার মিস্ট্রি। গল্প ০৩

  #গল্প_০৩  গল্পের নাম: Existential Crisis  জনরা:সাই ফাই, মিস্ট্রি  প্লট : মানুষ তার অস্তিত্ব রক্ষায় বসবাস করে মহাকাশে। কোনো বসবাস উপযোগী গ্রহ পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে স্পেস স্টেশনের অক্সিজেনও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একজন মাত্র বিজ্ঞানী আছেন যিনি মানব জাতিকে বাঁচানোর সম্ভাব্য উপায় জানেন।সেও নিখোঁজ। একজন ডিটেক্টিভকে যেভাবেই হোক সেই বিজ্ঞানীকে খোঁজে বের করতে হবে।                Existential Crisis সাল ২১৯৬। প্রায় ১০০ বছর হতে চলল দৈত্যাকৃতির স্পেসস্টেশন গুলোতে  মানুষ বাস করছে।পৃথিবী এখন অনুর্বর।মাটিতে আর ফসল হয়না বললেই চলে।সূর্যও যেন প্রচন্ড রেগে আছে,তাপের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।পৃথিবী হয়ে যাচ্ছে বসবাসের অনুপযোগী।  কিছু মানুষ তবুও পৃথিবিতেই থেকে যায়।  এখন মানব সভ্যতায় আলাদা কোনো দেশ নেই। দুইটা গ্রুপ আছে মানবজাতির। আর্থ মেন,যারা পৃথিবিতে থাকে, আর স্পেস মেন যারা বিভিন্ন স্পেসস্টেশনে থাকে। সবগুলো স্পেসস্টেশন নিয়ন্ত্রণ করে ‘স্পেস জেড’ নামের সবচেয়ে বড় স্টেশনটা। মহাকাশের শূন্যতায় অসহায়ের মত ভেসে থাকা স্পেস জেডে ২ টি স...