Skip to main content

এক্সিস্টেনশাল ক্রাইসিস। সাই-ফাই থ্রিলার মিস্ট্রি। গল্প ০৩

 



#গল্প_০৩ 

গল্পের নাম: Existential Crisis 

জনরা:সাই ফাই, মিস্ট্রি 

প্লট: মানুষ তার অস্তিত্ব রক্ষায় বসবাস করে মহাকাশে। কোনো বসবাস উপযোগী গ্রহ পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে স্পেস স্টেশনের অক্সিজেনও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একজন মাত্র বিজ্ঞানী আছেন যিনি মানব জাতিকে বাঁচানোর সম্ভাব্য উপায় জানেন।সেও নিখোঁজ। একজন ডিটেক্টিভকে যেভাবেই হোক সেই বিজ্ঞানীকে খোঁজে বের করতে হবে।



               Existential Crisis

সাল ২১৯৬।

প্রায় ১০০ বছর হতে চলল দৈত্যাকৃতির স্পেসস্টেশন গুলোতে  মানুষ বাস করছে।পৃথিবী এখন অনুর্বর।মাটিতে আর ফসল হয়না বললেই চলে।সূর্যও যেন প্রচন্ড রেগে আছে,তাপের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।পৃথিবী হয়ে যাচ্ছে বসবাসের অনুপযোগী।  কিছু মানুষ তবুও পৃথিবিতেই থেকে যায়। 


এখন মানব সভ্যতায় আলাদা কোনো দেশ নেই। দুইটা গ্রুপ আছে মানবজাতির। আর্থ মেন,যারা পৃথিবিতে থাকে, আর স্পেস মেন যারা বিভিন্ন স্পেসস্টেশনে থাকে। সবগুলো স্পেসস্টেশন নিয়ন্ত্রণ করে ‘স্পেস জেড’ নামের সবচেয়ে বড় স্টেশনটা।


মহাকাশের শূন্যতায় অসহায়ের মত ভেসে থাকা স্পেস জেডে ২ টি সেকশন আছে। এলিট কর্নার-অভিজাত মানুষেরা থাকে এখানটায় আর জেনারেল কর্নারে সাধারণ মানুষেরা থাকে।


জেনারেল কর্ণার এর একটি গলি ধরে একজন ডিটেক্টিভ হাটতে থাকে, দুইতলা একটি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়।পারতপক্ষে কোনো সম্ভ্রান্ত বংশের লোক স্পেসশিপের এই অংশে  আসে না।


প্রযুক্তি যে এতটা এগিয়ে গেছে সেটা বুঝাই যায় না এদিকটায়। ডিটেক্টিভ লোহার সিড়ি বেয়ে ২য় তলায় উঠে। একটি লোহার দরজা।অবশ্যই কোনো ডিজিটালাইজড নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নেই। দরজা খোলে ভেতরে ঢোকে ডিটেক্টিভ। 

 

“কে আপনি?” একটা মোটা কন্ঠস্বরের শব্দে পেছনে তাকায়। সাদা এপ্রোন পড়া লম্বা আর চিকন একটি যুবক দড়িয়ে আছে।এত চিকন মানুষ হতে পারে! ভাবে ডিটেক্টিভ। 

“ডিটেক্টিভ পুলিশ” ব্যাচটা দেখিয়ে বলে, “আর আপনি?”

“আমি মানে? এই ল্যাবে আমি কাজ করি।এটা আমার ল্যাব”

“আমি তো জানি এটা কোয়ান্টাম পদার্থবিদ আব্দুস সাত্তারের ল্যাব”

চিকন লম্বা ছেলেটির চেহারায় পরিবর্তন আসে। চেহারা লাল হয়ে আসে তার।

“আপনি তাকে কিভাবে চেনেন?”

“আমি খুজছি তাকে”

“কেন? স্পেসমেনরা আর কি চায় ওনার থেকে?”

“আপনি জানেন তিনি কোথায়?”

“না জানিনা।” কর্কশ কন্ঠে বলে তরুনটি।

ডিটেক্টিভ ছেলেটির কাছে যায়, “মানুষজাতির অস্তিত্ব বাচাতে তার গবেষণা দরকার”

“আচ্ছা? তাই নাকি? স্পেস জেড এর সবাই তো তাকে পাগল বলেছিলো। 

“মানুষকে বাচাতে বিজ্ঞানীরা সবধরণের চেষ্টাই করেছেন,সব দিক থেকেই ব্যার্থ তারা।নতুন গ্রহের খোজেও ব্যার্থ সবাই।বলতে পারেন এই মূহুর্তে সাত্তার সাহেবের গবেষনাই একমাত্র উপায়”

“আমাকে কেন বলছেন এসব।আমি জানিনা কিছু” জেদ নিয়ে বলে ছেলেটি।

“ঠিকাছে কিছু বলার দরকার নেই। স্পেসশিপের জ্বালানি ৩ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে আর অক্সিজেন ৪ মাসের মধ্যে-এই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করে যদি মনে হয় আমাকে আপনার বলার কিছু আছে তবেই বলবেন।”


ছেলেটি অবাক হয়। যদিও আগেই অনুমান করেছিলো স্পেসশিপের জ্বালানি আর অক্সিজেন শেষের দিকে তবুও ভাবেনি এত কম সময় বাকি আছে। 


স্পেস জেডের সরকারের প্রতি তার ক্ষোভ আছে কিন্তু এটা মানবজাতির অস্তিত্বের ব্যাপার। ছেলেটি মুখ খোলে-

“কার্লোস-২ এর ঘটনা তো জানেন?”


এই ঘটনা সবাই জানে।কার্লোস-২ একটা ছোট্ট স্পেসশিপ, যেটা আব্দুস সাত্তার আর তার গবেষণাদলকে দেয়া হয়েছিলো। সাত্তার সাহেবের মতে মানুষের বসবাসের জন্য নতুন গ্রহ খোজার দরকার নেই।টাইম ট্রাভেল করে সময়ের পেছনে গিয়েই নিজের পৃথিবীতে থাকতে পারবে।


এজন্যে সে ও তার দল টাইম মেশিন বানানোর চেষ্টা করে।

সরকার তাড়াহুড়ো করায়, পুরোপুরিভাবে তৈরি হওয়ার আগেই সেই যন্ত্র চালু করা হয়।যার ভায়নক পরিণতি সবাই জানে।কার্লোস-২ তার ২ হাজার ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।ইমার্জেন্সি ইউনিট ওই চিকন ছেলেটি আর সাত্তার সাহেবকে কোনোমতে উদ্ধার করে।


 “কার্লোস-২ এর ঘটনার ৫ মাস পরে স্যার এই স্পেস স্টেশন ছেড়ে চলে যান।”

“কোন স্টেশনে? “

“কোনো স্টেশনেই যাননি”

“মানে?” অবাক হয় ডিটেক্টিভ।ভ্রু কুচকে ওঠে।

“জি।  জিজ্ঞেস করেছিলাম কোথায় যাবেন তিনি, বলেন যে পৃথিবীতে যাবেন”

“পৃথিবীতে?কেন? গবেষনার জন্যে পৃথিবীর চেয়ে যেকোনো স্পেস স্টেশন অনেকগুন উন্নত”

“একই প্রশ্ন আমিও করেছিলাম।তার উত্তরের কিছুই বুঝলাম না।ঘাটালামও না তাকে।আমার বিশ্বাস আছে তার প্রতি।”

“কি উত্তর দিয়েছিলেন?”

“বললেন যে,  দেবতা সাহ্ এর খোজে যাবেন”


দেবতা সাহ!

এর গভীরে যেতে হলে ডিটেক্টিভকে পৃথিবীতে যেতে হবে।


যাত্রীবাহী একটি শিপে করে ডিটেক্টিভ ওইদিনই পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।শিপ থেকে নেমেই মুখে মাস্ক পড়ে নেয় সে।বিকালের এই সময়টাই ধুলোঝড় হতে পারে,তাছাড়া এখানটার বাতাস অনেক বেশি পরিমানে দুষিত।অক্সিজেনের পরিমান খুবই কম।কিন্তু এই গ্রহটাই একসময় অক্সিজেনের ভান্ডার ছিলো। রাস্তায় কিছু মানুষ দেখতে পায় যাদের সবাই তার মতন এপ্রোন পড়ে আছে,মুখে মাস্ক আর পিঠে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার।


ল্যাবের ওই ছেলেটির থেকে ডিটেকটিভ জানতে পেরেছে, পৃথিবীতে সাত্তার সাহেবের একমাত্র মেয়ে বাস করে। 

পরবর্তী ক্লু পাওয়ার জন্যে তার কাছেই যেতে হবে।


একটা পিক আপ ভ্যানে করে ‘'দি ভিলা’’ নামে একটা কাচের তৈরি পাচতলার বাড়ির সামনে আসে।গেটে একটা রোবট তার পথ আটকায়। 

ডিটেক্টিভ বলে, “আব্দুস সাত্তার সাহেবের সাথে দেখা করতে চাই” একটু পর তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়া হলো। ভেতরের দিকে কিছু গৃহস্থালি রোবট চোখে পড়ে,যেটা পৃথিবীতে সচরাচর দেখাই যায় না।


একটু পর সাদা স্যুট প্যান্ট পড়া এক যুবতী আসে তার সামনে- “বসুন”। চেয়ারের মত জিনিসটাতে বসে ডিটেক্টিভ।

“আপনি তো একজন স্পেসম্যান” হাতের ব্রেসলেটটার দিকে তাকিয়ে বলে, “বাবার কাছে কি চান?”

বাবা?তারমানে এই মেয়েটিই সাত্তার সাহেবের মেয়ে।

 “সাত্তার সাহেবের সাথে দেখা করা দরকার আমার”

“কি বিষয়ে?”

“টাইম মেশিন”ভনিতা না করে সরাসরি বলে ডিটেক্টিভ।

“ বাবা বাড়িতে নেই আপাতত। কাজে ব্যাস্ত আছেন।আর ওনি এখন এসব বিষয় নিয়ে আর পড়ে নেই।তো আপনি এখন আসতে পারেন মিস্টার স্পেসম্যান”-বলেই ওঠে চলে যেতে নেয় মেয়েটি।


 মুখের উপর  এভাবে বলাতে ডিটেক্টিভ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায়। কারণ কি বুঝতে পারে না সে, তার সামনের মানুষটি ‘'মেয়ে’ বলে নাকি ‘'সুন্দরী মেয়ে’ বলে?নিজেকে সামলে নেয়,“ আপনার বাবা আসলে বলবেন,দেবতা সাহ এর ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি”

শ্যামলা বর্ণের মেয়েটি ঘুরে দাঁড়ায়, কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে ডিটেক্টিভকে,

“আসুন আমার সাথে” ডিটেক্টিভকে সাথে নিয়ে উপরের তলায় একটা বড় কক্ষে যায়।

ঘরটিতে সাইন্টিফিক যন্ত্রপাতি আছে ঠিকই কিন্তু সেগুলো অবহেলিত, পুরনো কাগজপত্র আর বইপুস্তক ছড়ানো। “বাবা সারাদিন এখানে পড়ে থাকতেন,এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেন।প্রায়েই বিভিন্ন কাজে বাড়ির বাইরে থাকেন কিন্তু এবার না বলেই গিয়েছেন।কোথায় গিয়েছেন তাও জানিনা”

“কিছুই বলেননি আপনাকে?”

“যাওয়ার আগে বলেছিলো- যে পৃথিবী থেকে মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার আকাশেই মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার সমাধান আছে”


ডেস্কের ওপরে থাকা একটা পুরোনো কাগজের দিকে চোখ পড়ে ডিটেকটিভের।অদ্ভুদ কিছু আকাঁ সেখানে। 


“এটা কি?”

“অরিয়ন কনস্টেলেশন”

জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় ডিটেক্টিভ।

“পৃথিবীর আকাশ থেকে অনেক তারা-ই দেখা যায়” ডেস্কের বিপরীতে থাকা দেয়াল আকৃতির স্ক্রিনে আকাশের ছবি বের করে জারা, “আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় তারারা আকাশে র‍্যান্ডমলি ছড়িয়ে আছে। কিন্তু না, এরা কিছু নির্দিষ্ট জ্যামিতিক স্ট্রাকচার নিয়ে থাকে।এটার মত” স্ক্রিনের আকাশটা জুম করে।


“এখানে জ্যামিতিক স্ট্রাকচার কোথায়?” 

“দেখাচ্ছি”-জারা স্ক্রিনের আকাশে থাকা কিছু তারাকে আঙুল দিয়ে সোজা রেখায় সংযুক্ত করে।আকৃতিটা প্রথমে বালুঘড়ির মত দেখায়।আরো অনেক আগে মানুষ এগুলো ব্যাবহার করত, টাইমার হিসেবে,যার প্রয়োজন অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে।এরপর এই বালুঘড়ির মাথায় আরো কিছু দাগ টেনে আরো কয়েকটা তারা সংযুক্ত করে। 

“এই স্ট্রাকচারটাতে ৮১ টা তারা আছে। একটু দূর থেকে দেখুন”, ডিটেক্টিভ দূরে সরে।

“কি দেখতে পাচ্ছেন?”

“প্রাচীন বালুঘড়ির মত স্ট্রাকচার।এর মাথায় দুই দিকে দাগ কাটা”

“অনেকটা সেরকমই। আরেকটু ভালো করে দেখুন।যেটাকে বালুঘড়ি ভাবছেন সেটাকে একজন মানুষের শরীর ভাবুন, এর বামে একটা রেখা গেছে,হাতের মত, যার উপর কিছুটা বাকানো আরেকটা রেখা।মনে হয় ওই হাতে তলোয়ার উচু করে আছে।আর বালুঘড়ির আকৃতিটার ডানে দেখুন আরেকটা রেখা,মানুষটার বাম হাত, হাতে অর্ধবৃত্তাকৃতির কিছু একটা ধরে রাখা, ঢালের মত। ঢাল চেনেন? হিস্টরিক্যাল ডকুমেন্টারিজে দেখেছেন নিশ্চয়?”


ডিটেক্টিভ ভালো করে দেখে,আসলেই তো! মনে হচ্ছে আকাশে একটি লোক দড়িয়ে আছে যে বাম হাতে সামনের দিকে ঢাল ধরে আছে আর ডান হাত তলোয়ার উচু করে আছে।দেখে মনে হয় এই তারারা এক সাথে জড়ো হয়ে কিছু আঁকার চেষ্টা করছে-

“একজন প্রাচীন শিকারি!” চট করে বলে ডিটেকটিভ।

“একদম ঠিক বলেছেন, একজন শিকারী।


একটা সময় ছিলো যখন মানুষ প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে অনেক গবেষণা করত। 

দিন দিন পৃথিবী বিরুপ হতে থাকে, মানুষও নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় বেশি ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।  প্রাচীন ইতিহাসজ্ঞান একপর্যায়ে বিলাসিতা হয়ে যায়। তবে কেউ কেউ এখনো বিশ্বাস করে প্রাচীন ইতিহাসে সমাধান পাবে, তারাও মুখ থুবড়ে পড়ে।মানুষ ইতিহাসের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ে। 

নাহলে ভাবুন এত বছর পড়েও এই বই আর ডকুমেন্টসগুলো ডিজিটালাইজড করা হয়নি!

 আমার পূর্বপুরুষরা ইতিহাসের প্রতি দুর্বল ছিলো বলেই হয়তো এসব সংরক্ষন করেছে।যাইহোক",


 আবার স্ক্রিনের আকাশের দিকে মনোযোগ দেয় জারা,

"এখন আপনাকে যা বলতে যাচ্ছি সেই জ্ঞান আপনি, আমি,আমার বাবা আর এই পুরাতন প্যাপিরাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ”

ডিটেক্টিভ আরো মনোযোগ দিয়ে শুনে,সবকিছু আরো রহস্যময় হয়ে উঠছে তার কাছে।

“এই ৮১টা তারা মিলে শিকারীর মত যে ছবি বানিয়েছে সেটাই ওরিয়ন কনস্টেলেশন।মাঝামাঝি দেখুন” 

জারা তারা দিয়ে আঁকা শিকারি গঠনটার কোমরের দিকে নির্দেশ করে,


 “এখানে তিনটি তারা- আলনিতাক,আলনিতাম,মিন্তাকা। ওরিয়ন কনস্টেলেশন এর ৮১ টি তারার মধ্যে প্রধান হলো ৭টি।আর এই ৭টার মধ্যে এই ৩টি সবচেয়ে রহস্যময়”


“রহস্যময় কেন?”-ডিটেক্টিভ জিজ্ঞেস করে।

“ অনেক কারণ আছে।মিশরের গিজার ৩ পিরামিড এই ৩ তারাকে নির্দেশ করে।পৃথিবী প্রায় ধ্বংসের মুখে কিন্তু এই পিরামিডরা আগের মতই সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।কেউ কেউ বিশ্বাস করত এই তারাগুলোতে দেবতারা থাকেন,কেউ ভাবে এখান থেকেই এলিয়েনরা এসে পিরামিড নির্মানে সাহায্য করেছিল।”

“কিন্তু বুদ্ধিমান এলিয়েনের প্রমান তো এখনো পায়নি মানুষ”

“পায়নি।কিন্তু এত রহস্যের পিছনে কিছু না কিছু তো আছে-এটাই বিশ্বাস করত মানুষেরা।চেষ্টার কমতি রাখেনি মানুষ।একসময় তাঁরা রহস্যময় পিরামিডে প্রবেশ করে, কিন্তু মানব সভ্যতাকে বাঁচানোর মত কিছুই পায়নি। আর এটা এখন সবাই জানে, যে জ্ঞান মানুষ আর পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার্থে কাজে আসে না তা অপ্রাসঙ্গিক।তাই মানুষ হাল ছেড়ে দেয়।


“মিস জারা”, একটি রোবোটিক কন্ঠ বলে ওঠে, “ ডক্টর ইমরান আপনার সাথে দেখা করতে অপেক্ষা করছেন”।

"আপনি এতকিছু জানেন কিভাবে?" তাড়াহুড়ো করে জিজ্ঞেস করে ডিটেক্টিভ। 

"ইতিহাসে বিশ্বাস করে যারা মুখ থুবড়ে পড়েছিলো আমি তাদেরই একজন"

ডিকেটিভের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে জারা নিচে যায়।


ডিটেক্টিভ বিশাল স্ক্রিনে ভেসে থাকা তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে।কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে এই তারাগুলোতে?সাত্তার সাহেবই বা কেন স্পেস ছেড়ে এখানে এসে এসব নিয়ে পড়ে ছিলেন?আবার পুরোনো কাগজ ঘাটতে থাকে ডিটেকটিভ। একটা কাগজের দিকে চোখ পড়ে তার।কিছু একটা আকা আছে সেখানে, জারা যেমনটা একেছিলো স্ক্রিনে-

“শিকারী!অরিয়ন কন্সটেলেশন”.


কিন্তু এটা আর জারার আকা অরিয়নের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে।

শিকারি আকৃতিটার কোমরের দিকে যে ৩ টি তারা আছে এর মাঝের তারাটা, মানে আলনিতাম এর থেকে একটা সোজা দাগ চলে গেছে উপর দিকে।এর দুই সাইডের দুটি তারা থেকে  কোনাকুনি দাগ  উপরের দুই দিকের দুটি তারায় মিলে ক্রস তৈরি করেছে। কোমরের দিকের ৩টি তারা থেকে বের হওয়া ৩টি রেখা একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে,যার কাছে ছোট অক্ষরে লিখা-SAH.

“কি দেখছেন এত মনযোগ দিয়ে” জারা ফিরে আসে।

“এটা সম্পর্কে আপনি বলেননি কিছু আমাকে. রেখাগুলোর মিলিত বিন্দুটি দেখিয়ে বলে ডিটেকটিভ।

“দেখি” কৌতুহলী হয়ে দেখে মেয়েটি, “ওহ মাই গড!”


এর কিছুক্ষন পর জারা ও ডিটেক্টিভ প্রাইভেট প্লেন এর উঠে। মুখোমুখি সিটে  বসে তারা।

“কোথায় যাচ্ছি আমরা?”

“সাহ কে খুজতে সাথে আমার বাবাকেও”

ডিটেক্টিভ বোঝার চেষ্টা করে।

জারা ট্যাবলয়েড এর মত একটি যন্ত্রে মিশরের ম্যাপ বের করে,

 “ঐ ৩টি তারা যদি গিজার ৩টি পিরামিড নির্দেশ করে তাহলে ওই মিলিত বিন্দুর জায়গাটি পেতে হলে মাঝের পিরামিডটি থেকে সোজা যেতে হবে আমাদের”

“কতদূর?”

জারা তাকায় ডিটেক্টিভ এর দিকে।চোখের চাহনিতে উত্তর স্পষ্ট -জানা নেই।

“আপনি এতটা শিঊর হচ্ছেন কিভাবে মিলিত বিন্দুর জায়গাটিতেই সব উত্তর আছে?”


“সিউর হচ্ছি না।তবে সম্ভাবনা খুব বেশি। অরিয়ন কনস্টেলশন নির্দেশকারী প্রত্যেকটা সম্ভাব্য জায়গায় মানুষ প্রাসংগিক কিছু একটা পাওয়ার আশায় খোজ চালিয়েছে বহুকাল ধরে। পায়নি কিছুই। কেউ কেউ ধারণা করেছিল, এই অরিয়নের মাঝের ৩ তারাকে গিজার ৩ পিরামিড ধরে মানব শিকারী আকৃতিটি যতটুকু জায়গা কাভার করে এর কোনো একটা জায়গায় সব রহস্যের উত্তর আছে।

 কিন্তু একটা পর্যায়ে মানুষের এই অতি বিলাসী ইচ্ছাপূরণ থেকে মন উঠে গিয়েছিলো।অস্তিত্ব রক্ষায় বেশি মনোযোগী হয়।


বাবা যেহেতু এই জায়গা চিহ্নিত করেছে আমার বিশ্বাস এখানে কোনো না কোনো উত্তর আছে”।

জারার কথায় উত্তেজনা স্পষ্ট। অনেকদিন পর আবার আগের মত ইতিহাস বিচরণে নেমেছে সে। সবসময় বিশ্বাস করত,  ইতিহাসেই ভবিষ্যৎ বাঁচানোর উপায় আছে। অতীতই পারবে ভবিষ্যতকে বাঁচাতে।

প্লেন থেকে নেমে একটা গাড়ি করে গিজার দি গ্রেট পিরামিড থেকে সোজাচলা শুরু করে।কিসের খোজ করে সে জানে না। শুধু প্রাসংগিক কিছু চায় সে।ভোর হয়ে যায়। এখনো যাচ্ছে তারা। কোনো কিছু দেখেই প্রাসঙ্গিক  মনে হয়নি। 


বিচ্ছুর মত গঠনের ছোট্ট হোভার গাড়িটি দ্রুত বেগে চলতে থাকে। 

প্রায় দুপুর হয়ে এসেছে।বিশাল মরুভুমিতে কিছু বিরাট পাথর দেখতে পায় জারা। কতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে সে জানে না।গাড়িটিকে আরো কাছে নিয়ে যায়।

একটি গুহা!

 এটা কি প্রাসঙ্গিক? নাকি তার ক্লান্ত শরীরের বিশ্রামের জন্য ধোকা এটা? গুহার কাছে গাড়িটি থামায়।প্রাসঙ্গিক হোক বা না হোক, তার শরীরের বিশ্রাম প্রয়োজন।আরো কতদূর যেতে হবে সে জানে না।তাছাড়া রোদের তীব্রতা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।


গুহার ভেতর আশ্রয় নেয় দুই তরুণ-তরুণী। ডিটেক্টিভকে দেখে জারা। মরুভুমির প্রচন্ড গরমে সেও ঘেমে একাকার,তবু কেন জানি আকর্ষণীয় লাগে তাকে। চোখ ফিরিয়ে নেয় সে।ডিটেক্টিভ গুহার ভেতরের দিকে যায়।

“জারা!” হঠাৎ করে ডাক দেয় ডিটেক্টিভ, “এখানটায় দেখুন”

গুহার দেয়ালে আকা একটি ছবির দিকে ইঙ্গিত করে সে, যেমনটা সাত্তার সাহেবের গবেষনাগারে দেখেছিলো। মিলিত বিন্দুটা চিহ্নিত করা।এর পাশে খোদাই করে লিখা,  sah.

Sah!

জারা ভাবে- মিশরীয় মিথলোজির একজন শক্তিশালী দেবতা।অরিয়ন কন্সটেলেশন এর শিকারী আকৃতিকে মিশরীয়রা তাদের দেবতা সাহ্ এর সাথে তুলনা করে।


“খুব বেশি সময় হয়নি এটা খোদাই করে আঁকা হয়েছে,খোদাই করা ছবিটার চারদিকের বালি এখনো ঝুরঝুরে”-পর্যবেক্ষন করে বলে ডিটেকটিভ। 

“বাবা ছিলো এখানে।নিখোঁজ হওয়ার শেষ কয়েকদিন বাবার মুখে এই নামটা অসংখ্য বার শুনেছি। তারমানে আমরা ঠিক পথেই আছি”


আরো ভেতরের দিকে যায় তারা। জারার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।ভেতরের দিকটা আরো অন্ধকার হয়ে যায়।ডিটেকটিভ পকেট থেকে টর্চ আকৃতির যন্ত্রটা বের করে।কিছু একটা অনুভব করে তারা।অপ্রাকৃতস্থ কিছু। তারা জানে না সেটা কি। তারা জানে না তারা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য উদঘাটনের দারপ্রান্তে।আরো এগিয়ে যায় এই তরুণ- তরুণী।টর্চ নিভে যায়। আর জ্বলে না।একে অপরের হাত ধরে। অন্ধকারে হারিয়ে যায়। এই অন্ধকার তাদের নতুন জ্ঞান দিবে।মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্যে আরেকটি আশা! 


এই গুহার ওপারে-

আধপাকা কুঁকড়া চুলের এক ষাটোর্ধ লোক সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে  হাটছে।শরীরে ধুলোবালি, সাদা এপ্রোনটা এখন আর সাদা নেই।এপ্রোনো একটি নেমপ্লেট লাগানো-'আব্দুস সাত্তার'।একমিনিট আগেও সে মিশরের মরুভুমির একটা গুহার ভেতর দিয়ে হাটছিলো।কিন্তু এখানটায় সবুজ ঘাস, পাশে একটা লেক আর মাথার উপরে নীল আকাশ।লোকটি  হাটতে থাকে।খেয়াল করে এখানটায় ধুলোবালি নেই। তার হৃদস্পন্দন দ্রুততর হয়, এবার আরো জোরে হাটতে থাকে। জংগলের মাঝ দিয়ে একটা পিচঢালা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে দৌড়াতে থাকে লোকটি। এবার সে কিছু শব্দ শুনতে পায়।দৌড়ের গতি বেড়ে যায়,সাথে তার হার্টবিটও। চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে বয়স্ক লোকটি।সেখানটাই অনেক গাড়ি চলছে।রাস্তার পাশের একটি দোকানে যায়,একটা ছোট্ট স্ক্রিনে একটি মহিলা খবর পাঠ করছে।কি বলছে সেদিকে খেয়াল নেই বৃদ্ধের। স্ক্রিনের কোণায় তার দৃষ্টি আটকে আছে।  উত্তেজনায় শ্বাস নিতে পারছে না সে।বারবার চোখ মুছে আবার স্ক্রিনের ওই কোণার দিকেই তাকাচ্ছে যেখানে লিখা-

5:00 pm

2 september,2024.


আব্দুদ সাত্তারের মুখ দিয়ে চাপা উত্তেজনায় অস্ফুট আওয়াজ হয়,

"টাইম ট্রাভেল সম্ভব!"



✍️Turaag


Comments

Popular posts from this blog

You Are My Daffodil। রোমান্টিক থ্রিলার গল্প।গল্প ০১

 #গল্প_০১ গল্পের নাম: You Are My Daffodil জনরা: রোমান্টিক,থ্রিলার  লেখক: ইউসুফ তুরাগ প্লট: NPD (Narcissistic personality Disorder) এ ভোগা এক যুবক, ইরাশ, তার পছন্দের নারী,রিহাকে মেরে ফেলতে বাসে ওঠে। ইরাশ কেন তাকে মেরে ফেলতে চায়, শেষপর্যন্ত হত্যা করতে পারবে কি না,এর সাথে ড্যাফোডিল আর গ্রিক রুপকথার সম্পর্ক  নিয়ে এই গল্প। YOU ARE MY DAFFODIL চুপচাপ সিটে বসে আছে ইরাশ। বাসে ওঠার পর থেকেই একভাবে বসে আছে।পরনে ঢিলেঢালা সাদা শার্ট আর জলপাই রঙের কার্গো প্যান্ট। হাতে একগুচ্ছ ড্যাফোডিল। প্যান্টের সামনের পকেটে দুটো পকেট স্প্রে। মাঝেমাঝে গোলচশমার ফাক দিয়ে পাশে জানলার ধারের সিটে বসে থাকা মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে।হাতে থাকা ড্যাফোডিলগুচ্ছে স্প্রে করে মেয়েটাকে ঘ্রান নিতে দিলেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে. মেয়েটার নাম রিহা। বাসের জানালা দিয়ে আগত বাতাস তার কৃষ্ণকালো চুল উড়িয়ে নিচ্ছে।কাকতালীয় ভাবে তার জামার রং আর ইরাশের হাতে থাকা ফুলের রঙ একই।হলুদ। হলুদ রঙ বসন্তকে ডেকে আনে ।আর বসন্ত আনে প্রেম.প্রেম কি? ইরাশ ভাবে।এই যে আঙুল দিয়ে রিহার এলোমোলো চুল ঠিক করার দৃশ্য দেখে তার হৃতস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে স...

রি:পার্ট ০১:মার্ডার অন দি শিপ।পর্ব ০১।গল্প ০২

   গল্পের নাম : Ri part 1: Murder on the ship (#পর্ব_০১) জনরা: রহস্য, থ্রিলার "তো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।লোকটার পরিচয় জানা গেছে?” “ না।লোকটা একা ছিলো কেউ চিনে না তাকে” WAVEs A11 জাহাজের ছোট্ট একটা কেবিনে দাঁড়িয়ে ওসি সাহেব আর এই জাহাজের ক্যাপ্টেন মোফাজ্জল হক কথা বলছে।ছোট্ট কেবিনটাতে আরো ৩জন আছে।সাব ইন্সপেক্টর,একজন কন্সটেবল আর চতুর্থ ব্যাক্তিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দুইতলাবিশিষ্ট এই জাহাজের নিচতলায় সব কেবিন গুলো পাড় হয়ে একটা সিড়ি পাওয়া যায়। সিড়ি বেয়ে নেমে সোজা সরু করিডোর দিয়ে শেষের দিকে গেলে এই ছোট্ট স্টোররুমের মত কেবিন। কেবিনে ঢুকে ডানদিকের ফাকা জায়গাটায় একটা চাদর বিছানো। তার উপর একটা মৃতদেহ! হাত পা ছড়ানো, মুখে দাড়ি।কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেমানান বিষয়টা হবে-বৃদ্ধের বাম চোখের জায়গায় গর্তটা।গুলির বেগ চোখ ও মস্তিষ্ককে ঝাঝড়া করে দিয়ে বেরিয়ে গেছে।ফ্লোরে মগজ আর রক্তের ছিটকে থাকা অংশ দেখেই এটা আন্দাজ করা যায়। ওসি সাহেব রুমটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করছে। কিছু একটা খুজছে সে। পাওয়া গেলনা।পাজলের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ টুকরোটাই মিসিং!ওয়েপন অব দি মার্ডার! “ লাশ প্রথম কে খুজে পেয়ে...